আসসালামুআলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমার আর্টিকেলগুলো সাধারণত
নুতনদের জন্য লেখা হয়, এবারেরটিও তাই। আজকের লিখাটি হচ্ছে এসইও নিয়ে।
আপনার ওয়েবসাইটের মাঝে আপনি এসইও করার লক্ষে যে কাজ গুলো করে থাকবেন, সেই কাজ গুলোকে বলা হচ্ছে অন পেইজ এসইও। এসইও করার প্রধান শর্ত হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণরূপে তৈরি করতে হবে। ওয়েবসাইটের কাজ চলাকালীন এসইও করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর অফ পেইজ এসইও শুরু করার পূর্বে অন পেইজ এসইও ভালোভাবে সম্পন্ন করা উচিত। তা না হলে পুরো পরিশ্রম ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়া না করে ধাপে ধাপে আগানো উচিত।
ধাপ-এক:
প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিনের আলাদা আলাদা পদ্ধতি রয়েছে সার্চ করার জন্য। তবে
আমাদের প্রধান তিনটি সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে বেশী প্রাধান্য দিতে হবে। প্রধান
তিনটি সার্চ ইঞ্জিন বলতে আমি বোঝাতে চাচ্ছি গুগল, ইয়াহু, বিং। অন পেইজ
এসইও এর ক্ষেত্রে প্রথমেই যে কাজটি করতে হয় তা হলো কীওয়ার্ড রিসার্চ।
এটির জন্য আমরা আমাদের পছন্দ মতো টুলস বা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারি।
এছাড়া অন্যান্য এসইও কাজের জন্যও আমরা আমাদের পছন্দ মতো টুলস বা
সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারি।
ধাপ-দুই: এর পরের কাজটি হলো মেটা ট্যাগ নির্বাচন করা। একটি সম্পূর্ণ মেটা ট্যাগের তালিকা দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।
ধাপ-তিন:
ধরুন আপনি একটি বাড়ি তৈরি করবেন। তবে সর্বপ্রথম আপনি কি করবেন? নিশ্চয়ই
একজন প্রৌকোশলী দিয়ে বাড়ির ডিজাইন তৈরি করবেন। ঠিক তেমনি করে একটি
ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে আপনাকে ওয়েবসাইটটির কাঠামো তৈরি করতে হবে। প্রতিটি
পেইজ থেকে যেন যেকোনো পেইজে সহজেই যাওয়া যায়, এমন বেবস্থা থাকা
বাধ্যতামূলক। একজন ইউজার যাতে আপনার ওয়েবসাইটে হারিয়ে না যায় এবং খুব
সহজে ইউজার যেন তার ইচ্ছা মতো পেইজে যেতে পারে তার জন্য একটি সাইটম্যাপ
তৈরি করা যেতে পারে। এক কথায় পুরো সাইটটি এমন ভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে
ইউজার ও সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের জন্য সুবিধা হয়।
ধাপ-চার: ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে যা অনেকেই এড়িয়ে যায়। কিন্তু এই বিষয় গুলো কখনই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
ধাপ-পাচ: পেইজ রেঙ্ক কিভাবে নির্ণয় করা যায়, এসইও এর বিভিন্ন টুলস:
এছাড়া বিভিন্ন ব্রাউজারের জন্য অনেক প্লাগিন বা অ্যাডঅনস রয়েছে যা দিয়ে সহজে এসইও সংক্রান্ত সকল ডাটা পাওয়া যায়।
ধাপ-ছয়: একটি ওয়েবসাইটের জন্য-
ধাপ-সাত: আপনার ওয়েবসাইট ইউজারকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য দুটি জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে: গুগল এনালাইটিক ও গোস্কয়ার্ড।
ধাপ-আট:
আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এবং ডিজাইন ও অন পেইজের সব কাজ শেষ
হলে সাইটটিকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে যুক্ত করতে হবে। গুগল ও বিং এ কিভাবে
আপনার ওয়েবসাইটটি যুক্ত করবেন, সাইটম্যাপ যুক্ত করবেন।
ধাপ-এক:
অফ পেইজ এসইও এর শুরুতেই আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, তিনটি ফানপেইজ তৈরি
করতে হবে গুগল প্লাস, ফেইসবুক ও টুইটারে। তবে শুধু এই তিনটি ফানপেইজ তৈরি
করলেই যে হবে তা নয়। কিন্তু এই তিনটি হচ্ছে কমন। এছাড়াও আপনি আরো
অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটে ফানপেইজ তৈরি করতে পারেন। এটি আসলে
নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইটের উপর। যেসব সাইট গুলোতে আপনার টার্গেট
ইউজারদের আনাগোনা বেশি সেইসব সাইটকে আপনার টার্গেট করে আপনার ফানপেইজ তৈরি
করতে হবে। ফানপেইজ তৈরি করার পর প্রথম কাজ হলো ওই ফানপেইজে ইউজার নিয়ে
আসা। তার জন্য আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। তবে কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে
যারা এই ইউজার আনতে সাহায্য করে। তবে এটি সঠিক পন্থা নয়। যদি আপনার
ফানপেইজকে সাসপেন্ড করে দেয় সেটির জন্য তখন আমাকে দোষারোপ করতে পারবেন না।
ধাপ-দুই:
ডিরেক্টরি সাবমিশন, সোশ্যাল বুকমার্কিং, ব্লগ কমেন্ট, আর্টিকেল সাবমিশন,
ফোরাম পোস্টিং, edu ও gov লিঙ্কিং, কমেন্ট ইত্যাদি করতে হয়। এই কাজ গুলো
কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা শুধু মাত্র যারা এসইও এর কাজ করেন তারাই বুঝেন।
ইউজারকে আপনার ওয়েবসাইটে আনতে এই কাজ গুলো বিশেষভাবে সাহায্য করে এবং পেইজ
রেঙ্ক বাড়াতে বিশেষভাবে কার্যকর। এছাড়া ওয়েবসাইটে আপনার সাইটটিকে
পরিচিত করে দেয়। এছাড়া আপনার ওয়েবসাইটের মান ও পেইজ রেঙ্ক দুটিই
বাড়িয়ে দেয়।
ধাপ-তিন: কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট নিয়ে কথা বলবো-
ধাপ-চার: অনলাইন সার্ভে ও নিউজলেটার নিয়ে কিছু কথা বলবো-
তো বন্ধুরা আমরা এসইও ধাপগুলোর একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় আমি যা যা লিখছি তা করলেই এসইও শেষ। আমি বার বার বলেছি এসইও নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়-বস্তুর উপর। এই গুলো ছাড়াও আরোও অনেক কাজ আপনাকে করতে হতে পারে। সময় সল্পতার জন্য প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি নাই। কিন্তু সব বিষয় নিয়ে অল্প করে হলেও আলোচনা করতে চেষ্টা করেছি। তারপরও কোনোও বিষয়ে সমস্যা থাকলে গুগল মামা আছে না?
আপনার ওয়েবসাইটের মাঝে আপনি এসইও করার লক্ষে যে কাজ গুলো করে থাকবেন, সেই কাজ গুলোকে বলা হচ্ছে অন পেইজ এসইও। এসইও করার প্রধান শর্ত হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণরূপে তৈরি করতে হবে। ওয়েবসাইটের কাজ চলাকালীন এসইও করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর অফ পেইজ এসইও শুরু করার পূর্বে অন পেইজ এসইও ভালোভাবে সম্পন্ন করা উচিত। তা না হলে পুরো পরিশ্রম ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়া না করে ধাপে ধাপে আগানো উচিত।
অন পেইজ এসইও
- ওয়েবসাইট লোডিং স্পীড: ওয়েবসাইটটি লোড হতে কত সময় নিচ্ছে তার জন্য আমরা গুগল ইনসাইট ব্যবহার করতে পারি।
- ব্রাউজার উপযুক্ততা: ওয়েবসাইটটি প্রতিটি ব্রাউজার সমর্থন করছে কিনা তার জন্য আমরা ব্রাউজারল্যাব ব্যবহার করতে পারি।
- এইচটিএমএলের কার্যকারীতা: এইচটিএমএলের কার্যকারীতা পরীক্ষার জন্য আমরা w3 validator ব্যবহার করতে পারি।
- সিএসএসের কার্যকারীতা: সিএসএসের কার্যকারীতা পরীক্ষার জন্য আমরা w3 jigsaw ব্যবহার করতে পারি।
- কনটেন্ট পরীক্ষা: ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ইউনিক কিনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা Copy Scape ব্যবহার করতে পারি।
- কনটেন্ট সমূহের ব্যাকরণ: কনটেন্ট সমূহের ব্যাকরণ পরীক্ষার জন্য আমরা Grammarly ব্যবহার করতে পারি।
এছাড়া বিভিন্ন ব্রাউজারের জন্য অনেক প্লাগিন বা অ্যাডঅনস রয়েছে যা দিয়ে সহজে এসইও সংক্রান্ত সকল ডাটা পাওয়া যায়।
- একটি. Htaccess (হাইপারটেক্সট এক্সেস) ফাইল একটি ডিরেক্টরি-স্তরের কনফিগারেশন ফাইল, ওয়েব সার্ভার কনফিগারেশন পরিচালনার জন্য সাহায্য করে থাকে।
- XML সাইটম্যাপ: এই সাইটম্যাপটি সার্চ ইঞ্জিনের জন্য তৈরি হয়ে থাকে।
- Robots.txt: আপনি সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার সাইটের কোন পেইজটিতে প্রবেশাধিকার দিবেন আর কোনটিতে দিবেন না তা নির্ধারণ করে।
অফ পেইজ এসইও
আমরা ধরে নিচ্ছি আপনার ওয়েবসাইটের অন পেইজ এসইও সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে, কেবল মাত্র তখনই আপনি অফ পেইজ এসইও নিয়ে ভাবতে পারেন।- squidoo: এই ওয়েবসাইটটিতে লেন্স তৈরি করে আর্টিকেল পোস্ট করতে হয়।
- pinterest: ছবির জন্য একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। এটির Pin it বাটনটি আপনার ব্রাউজারে যুক্ত করে ছবি পিন করা হয়।
- লোকাল ডিরেক্টরি: আপনার প্রতিষ্ঠানটিকে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে লোকাল ডিরেক্টরি ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার হয়।
- craigslist: আপনার বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য craigslist সহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
- SurveyMonkey: এই ওয়েবসাইটটি অনলাইন সার্ভের জন্য অনেক জনপ্রিয়।
- MailChimp: ইমেইল নিউজলেটার পাঠানোর জন্য এটি অনেক জনপ্রিয়।
- AWeber: ইমেইল নিউজলেটার পাঠানোর জন্য আরেকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট।
- TargetHero: যদিও এই সাইটটি একদম নতুন, তবে ফ্রী ইমেইল নিউজলেটার পাঠানোর জন্য খুব একটা খারাপ না।
তো বন্ধুরা আমরা এসইও ধাপগুলোর একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় আমি যা যা লিখছি তা করলেই এসইও শেষ। আমি বার বার বলেছি এসইও নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়-বস্তুর উপর। এই গুলো ছাড়াও আরোও অনেক কাজ আপনাকে করতে হতে পারে। সময় সল্পতার জন্য প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি নাই। কিন্তু সব বিষয় নিয়ে অল্প করে হলেও আলোচনা করতে চেষ্টা করেছি। তারপরও কোনোও বিষয়ে সমস্যা থাকলে গুগল মামা আছে না?
কিছু কথা:
এসইও এর উপর পনের পর্বের বাংলা টিউটোরিয়ালের জন্য "ফ্রী বাংলা টিউটোরিয়াল" আর সাথে থাকছে প্রায় সাত হাজার ডিরেক্টরি সাবমিশন, সোশ্যাল বুকমার্কিং, ব্লগ কমেন্ট, আর্টিকেল সাবমিশন, ফোরাম পোস্টিং, edu ও gov লিঙ্কিং, কমেন্ট ইত্যাদির বিশাল তালিকা। ইচ্ছা হলে দেখতে পারেন।
No comments:
Post a Comment